গৃহিনী নাকি গৃহ ব্যবস্থাপক নাকি হোমমেকার ? কি সম্মান দিবো তাদের আমরা।
আমি আজ এমন এক বিষয় নিয়ে কথা বলবো যা নিয়ে আমরা প্রতিদিন নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। তা হলে আমাদের পরম প্রিয় মানুষটির কাজ কে আমরা কিভাবে মূল্যায়ন করবো। বর্তমান মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সবকিছুকে আমরা বিনিময় যোগ্য করে ফেলেছি। এমনকি অনুভূতি গুলো কে অর্থের মাপকাটি তে ফেলেছি।
পরিবার সমাজের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।পরিবার ব্যক্তিকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে ভিত্তি কে তিলে তিলে গলা টিপে ফেলেছি। আজ এতো অনৈতিকতার মূল কারণ হলো এই ভিত্তি কে নষ্ট করা। আজ হতে ১৪০০শ বছর পূর্বে যার আগমনে এই ধারিণীতে হয়েছিল ধন্য সে বলছে কেমন সম্মান হবে আমাদের নারীদের এবং দেখিয়ে দিয়েছিলো নিজের জীবনে এমকি তার সাহাবাদের জীবনে আমরা তা দেখতে পায় । কিন্তু বর্তমানে অর্থনীতির যাঁতাকলে আমরা নিষ্পেষিত হয়ে এই সংজ্ঞা কে ক্রমেই অপমান করছি। ইসলামের দৃষ্টিতে পরিবারে নারী ও পুরুষ পরস্পরের সহযোগী।স্বামী ও স্ত্রী পরিবার গঠনের মাধ্যমে পরস্পরের পাশে থেকে ইহকালীন ও পারলৌকিক সৌভাগ্য অর্জন করতে চান। তাই পরিবার নারী ও পুরুষের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র নয় বরং তা সহযোগিতার কেন্দ্র। এখানে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে মানুষের আত্মিক উন্নতি ঘটে এবং বিকাশ ঘটে মানবীয় প্রতিভার। অন্য কথায় ইসলামের দৃষ্টিতে পরিবারের ভিত্তি হল ভালবাসা প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়। দাম্পত্য জীবনসহ জীবনের সব দিকে স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরকে সহযোগিতা করে এই ভালবাসার ভিত্তিতেই। সে জন্য পরিবারের সদস্যরা দায়িত্ব বা কাজগুলো ভাগ করে নেন।ইসলাম গৃহস্থালী কাজ করার দায়িত্ব কখনও নারীর ওপর চাপিয়ে দেয়নি। তবে নৈতিক উপদেশ হিসেবে ঘরের কাজ করতে সক্রিয় বা উদ্যোগী হওয়ার জন্য নারীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং এ ধরনের কাজ করাকে ইবাদতের সমতুল্য বলে উল্লেখ করেছে। কারণ, পরিবারে ভারসাম্য রক্ষার জন্য কাজ ভাগ করে নেয়া বা শ্রম-বিভাজন জরুরি। আর এরই আলোকে ঘরের বাইরের কঠিন কাজগুলো করা পুরুষের দায়িত্ব। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) নারীদের বলেছেন: যে নারী বা স্ত্রী যখন স্বামীর ঘরের কোনো জিনিষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেয় তথা কোনো কাজ করে ঘরের সংস্কার বা উন্নয়নের লক্ষ্যে সে সময় আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকান। আর আল্লাহ যার দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন তাকে তিনি শাস্তি বা আজাব দেবেন না।এ ছাড়াও ইসলাম ঘরের কাজকর্মে স্ত্রীকে সহায়তা করতে স্বামীকে পরামর্শ দিয়েছে। ঘরের কাজ করা কেবল স্ত্রীর দায়িত্ব –এমনটি ভাবতে নিষেধ করে ইসলাম। আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.) ঘরের কাজে ফাতিমা (সা.)-কে সহায়তা করতেন বলে বহু বর্ণনা রয়েছে। তিনি ঘরের চুলার জন্য লাকড়ি বয়ে আনতেন, ঘরের জন্য পানি আনতেন এবং ঘরে ঝাড়ু দিতেন। অন্যদিকে ফাতিমা (সা.) আটা বানাতেন, খামির করতেন ও রুটি তৈরি করতেন।
কিন্তু পশ্চিমা নারীর ইতিহাসে দেখা যায় প্রাচীন, মধ্য ও রেনেসাঁর যুগেও পশ্চিমা নারী ছিল সম্মানহীন ও পুরুষের দাসীর সমতুল্য।গ্রিক কবি হোমারের মতে নারীর কাজ হল কেবল সন্তান জন্ম দেয়া ও ঘর-কন্নার কাজ করা। গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল মনে করতেন পুরুষের সেবিকা হিসেবে নারী হল দাসী।রেনেসাঁর যুগেও পাশ্চাত্যে নারীর অবস্থা তেমন উন্নত হয়নি।আসলে ফেমিনিজম বা নারীবাদী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল নারীর প্রতি পাশ্চাত্যের ঐতিহাসিক জুলুমের প্রতিবাদে। কিন্তু এই আন্দোলনও নারীর ভূমিকায় কোনো ভারসাম্য আনতে পারেনি বরং আন্দোলনটি উগ্রবাদ বা চরমপন্থী চিন্তার শিকার হয়েছে। কারণ, তারা নারী মুক্তির কথা বলে নারীকে তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ করেছে।পাশ্চাত্যে নারীবাদের বিস্তারের ফলে বিয়ে করা, মা হওয়া ও সংসারী হওয়াকে নারীর জন্য অশালীন বলে মনে করা হয় এবং ঘরের বাইরে নারীর কাজ করাকে ব্যাপক উতসাহ দেয়া হয়। আজ আমাদের মা বোনেরা এই ধোকায় পরে সবকিছুর জলাঞ্জলি দিচ্ছে।
হযরত আলী (রাঃ) তাঁর স্ত্রীকে প্রায়ই বলতেন যে, 'তোমার কাছে তো আমার অনেক ঋণ হয়ে গেল।" জবাবে তাঁর স্ত্রী বলতেন, 'আমি আপনাকে ভালবাসি আর আল্লাহর কাছে প্রতিদান চাই।"
মানবিক বিবেচনায় দেখলে, গৃহিনীর কাজ উচুমানের পেশা বটে। যে পেশা চালু না থাকলে সুস্থ্য স্বাভাবিক প্রজন্মের বিকাশ সম্ভব নয়। একজন 'স্ত্রী' কে কেন শুধুই শয্যাসঙ্গী মনে করা হবে? অথবা কেন শুধুই মনে করা হবে যে, তিনি বাধ্যতামূলকভাবে সংসারের রান্নাবান্না আর ধোয়ামোছার কাজে নিযুক্ত। আধুনিক 'গৃহস্থবিদ্যা' অনুসারে একজন 'স্ত্রী' র কাজকে বলা হয় 'হাউজ ম্যানেজমেন্টের' কাজ। একজন স্ত্রী আধুনিক ভাষায় একজন 'হাউস ম্যানেজার'।
মূল কথা হলো আমরা পুরুষরা আমাদের সমাজ কে নিজেদের সুবিধা মতো সাজিয়েছি যা অনেক কাল ধরে চলে আসছে। ইসলাম আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে কেমন হওয়া উচিত আমাদের জীবন তা মেনে চলার মধ্যেই সুখ নিহিত আছে।
আমি আজ এমন এক বিষয় নিয়ে কথা বলবো যা নিয়ে আমরা প্রতিদিন নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। তা হলে আমাদের পরম প্রিয় মানুষটির কাজ কে আমরা কিভাবে মূল্যায়ন করবো। বর্তমান মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সবকিছুকে আমরা বিনিময় যোগ্য করে ফেলেছি। এমনকি অনুভূতি গুলো কে অর্থের মাপকাটি তে ফেলেছি।
পরিবার সমাজের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।পরিবার ব্যক্তিকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে ভিত্তি কে তিলে তিলে গলা টিপে ফেলেছি। আজ এতো অনৈতিকতার মূল কারণ হলো এই ভিত্তি কে নষ্ট করা। আজ হতে ১৪০০শ বছর পূর্বে যার আগমনে এই ধারিণীতে হয়েছিল ধন্য সে বলছে কেমন সম্মান হবে আমাদের নারীদের এবং দেখিয়ে দিয়েছিলো নিজের জীবনে এমকি তার সাহাবাদের জীবনে আমরা তা দেখতে পায় । কিন্তু বর্তমানে অর্থনীতির যাঁতাকলে আমরা নিষ্পেষিত হয়ে এই সংজ্ঞা কে ক্রমেই অপমান করছি। ইসলামের দৃষ্টিতে পরিবারে নারী ও পুরুষ পরস্পরের সহযোগী।স্বামী ও স্ত্রী পরিবার গঠনের মাধ্যমে পরস্পরের পাশে থেকে ইহকালীন ও পারলৌকিক সৌভাগ্য অর্জন করতে চান। তাই পরিবার নারী ও পুরুষের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র নয় বরং তা সহযোগিতার কেন্দ্র। এখানে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে মানুষের আত্মিক উন্নতি ঘটে এবং বিকাশ ঘটে মানবীয় প্রতিভার। অন্য কথায় ইসলামের দৃষ্টিতে পরিবারের ভিত্তি হল ভালবাসা প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়। দাম্পত্য জীবনসহ জীবনের সব দিকে স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরকে সহযোগিতা করে এই ভালবাসার ভিত্তিতেই। সে জন্য পরিবারের সদস্যরা দায়িত্ব বা কাজগুলো ভাগ করে নেন।ইসলাম গৃহস্থালী কাজ করার দায়িত্ব কখনও নারীর ওপর চাপিয়ে দেয়নি। তবে নৈতিক উপদেশ হিসেবে ঘরের কাজ করতে সক্রিয় বা উদ্যোগী হওয়ার জন্য নারীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং এ ধরনের কাজ করাকে ইবাদতের সমতুল্য বলে উল্লেখ করেছে। কারণ, পরিবারে ভারসাম্য রক্ষার জন্য কাজ ভাগ করে নেয়া বা শ্রম-বিভাজন জরুরি। আর এরই আলোকে ঘরের বাইরের কঠিন কাজগুলো করা পুরুষের দায়িত্ব। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) নারীদের বলেছেন: যে নারী বা স্ত্রী যখন স্বামীর ঘরের কোনো জিনিষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেয় তথা কোনো কাজ করে ঘরের সংস্কার বা উন্নয়নের লক্ষ্যে সে সময় আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকান। আর আল্লাহ যার দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন তাকে তিনি শাস্তি বা আজাব দেবেন না।এ ছাড়াও ইসলাম ঘরের কাজকর্মে স্ত্রীকে সহায়তা করতে স্বামীকে পরামর্শ দিয়েছে। ঘরের কাজ করা কেবল স্ত্রীর দায়িত্ব –এমনটি ভাবতে নিষেধ করে ইসলাম। আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.) ঘরের কাজে ফাতিমা (সা.)-কে সহায়তা করতেন বলে বহু বর্ণনা রয়েছে। তিনি ঘরের চুলার জন্য লাকড়ি বয়ে আনতেন, ঘরের জন্য পানি আনতেন এবং ঘরে ঝাড়ু দিতেন। অন্যদিকে ফাতিমা (সা.) আটা বানাতেন, খামির করতেন ও রুটি তৈরি করতেন।
কিন্তু পশ্চিমা নারীর ইতিহাসে দেখা যায় প্রাচীন, মধ্য ও রেনেসাঁর যুগেও পশ্চিমা নারী ছিল সম্মানহীন ও পুরুষের দাসীর সমতুল্য।গ্রিক কবি হোমারের মতে নারীর কাজ হল কেবল সন্তান জন্ম দেয়া ও ঘর-কন্নার কাজ করা। গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল মনে করতেন পুরুষের সেবিকা হিসেবে নারী হল দাসী।রেনেসাঁর যুগেও পাশ্চাত্যে নারীর অবস্থা তেমন উন্নত হয়নি।আসলে ফেমিনিজম বা নারীবাদী আন্দোলন গড়ে উঠেছিল নারীর প্রতি পাশ্চাত্যের ঐতিহাসিক জুলুমের প্রতিবাদে। কিন্তু এই আন্দোলনও নারীর ভূমিকায় কোনো ভারসাম্য আনতে পারেনি বরং আন্দোলনটি উগ্রবাদ বা চরমপন্থী চিন্তার শিকার হয়েছে। কারণ, তারা নারী মুক্তির কথা বলে নারীকে তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ করেছে।পাশ্চাত্যে নারীবাদের বিস্তারের ফলে বিয়ে করা, মা হওয়া ও সংসারী হওয়াকে নারীর জন্য অশালীন বলে মনে করা হয় এবং ঘরের বাইরে নারীর কাজ করাকে ব্যাপক উতসাহ দেয়া হয়। আজ আমাদের মা বোনেরা এই ধোকায় পরে সবকিছুর জলাঞ্জলি দিচ্ছে।
হযরত আলী (রাঃ) তাঁর স্ত্রীকে প্রায়ই বলতেন যে, 'তোমার কাছে তো আমার অনেক ঋণ হয়ে গেল।" জবাবে তাঁর স্ত্রী বলতেন, 'আমি আপনাকে ভালবাসি আর আল্লাহর কাছে প্রতিদান চাই।"
মানবিক বিবেচনায় দেখলে, গৃহিনীর কাজ উচুমানের পেশা বটে। যে পেশা চালু না থাকলে সুস্থ্য স্বাভাবিক প্রজন্মের বিকাশ সম্ভব নয়। একজন 'স্ত্রী' কে কেন শুধুই শয্যাসঙ্গী মনে করা হবে? অথবা কেন শুধুই মনে করা হবে যে, তিনি বাধ্যতামূলকভাবে সংসারের রান্নাবান্না আর ধোয়ামোছার কাজে নিযুক্ত। আধুনিক 'গৃহস্থবিদ্যা' অনুসারে একজন 'স্ত্রী' র কাজকে বলা হয় 'হাউজ ম্যানেজমেন্টের' কাজ। একজন স্ত্রী আধুনিক ভাষায় একজন 'হাউস ম্যানেজার'।
মূল কথা হলো আমরা পুরুষরা আমাদের সমাজ কে নিজেদের সুবিধা মতো সাজিয়েছি যা অনেক কাল ধরে চলে আসছে। ইসলাম আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে কেমন হওয়া উচিত আমাদের জীবন তা মেনে চলার মধ্যেই সুখ নিহিত আছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন